sylhet tour 2018

Sylhet Tour 2017

Sylhet Tour 2017

অফিসের কাজের চাপ আর এম বি এ এর পড়াশুনার প্রেশার এ হাঁসফাঁস লাগছিলো। চাকরিজীবি মানুষের জন্য কোথাও ঘুরতে যাওয়াটা একপ্রকার অসম্ভবই বলা যায়। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে ছুটির অভাব। আর আমরা যারা এম বি এ   করি তাদের জন্য ছুটি একটা সোনার হরিণের মত। সপ্তাহে একদিন ছুটি থাকে, কখনো কখনো তাও থাকে না। পুরো সপ্তাহের জমানো কাজ গুলো করতে হয় ঐ একদিনের ছুটিতে।

টানা কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। ভাবছিলাম কোথাও থেকে যদি ছোট খাটো একটা ট্যুর দিয়ে আসা যেত তাইলে অনেক ভাল হতো। খুঁজতে খুঁজতে পেয়েও গেলাম যা চাইছিলাম তেমনি একটি ট্যুর এর খোঁজ। বন্ধু ইমরান আর রাহির

ফেইসবুক ভিত্তিক একটা ট্যুর গ্রুপ যার নাম “ট্যুর গ্রুপ বিডি”।  তাদের একটা ইভেন্ট চোখে পড়লো।

 

sylhet tour 2018
sylhet tour 2018

ঢাকা থেকে ২ দিনের ট্যুর এ সিলেট  যাবে। শুক্তবার যেহেতু ছুটির দিন,  সাথে শনিবার ছুটি নিলেই যাওয়া যায়। তাই তখনি যোগ দিয়ে দিলাম তাদের সঙ্গে। আশেপাশের কিছু ক্লোজ বন্ধুদের বললাম। ওরাও যাবার জন্য রাজি হয়ে গেল। আমার ভাবনা ছিল একটাই … অরা কি এই টি জি বি গ্রুপ টার সাথে মানাতে পারবে? ভাবতে ভাবতে ঘুরতে যাওয়ার সময় চলে আসলো।

 

ঢাকার কমলাপুর থেকে বৃহস্পতিবার  আমরা রাত ১০ টার ট্রেন এ ১৪ জন অভিযাত্রী কে সঙ্গী করে যাত্রা শুরু করি।

এর পর এয়ারপোর্ট থেকে  আমাদের সাথে আর ৬ জন জয়েন করে। তাই আমাদের টোটাল অভিযাত্রী হয় ২০ জন। আগেই আমাদের গ্রুপ এর একটা নাম সিলেক্ট করা হয়। “হালুয়া বাহিনি” ট্রেন এই  মোটামুটি সবার সাথে পরিচয় হয়ে গেল। সবার ব্যবহার নিয়ে মনে যে দুঃচিন্তা ছিল, সেটা চলে গেল। পুরো ভ্রমণে একবারও মনে হয়নি আমি তাদের অপরিচিত কেও।

 

ট্রেন এ উঠার পর মনে পরল যে আমাদের ১ জন অভিযাত্রী যাবে না। মানুষ ২০ জন কিন্তু টিকেট ২১ টা । শুরু হয়ে গেল সবাই মিলে টিকেট বেচার নিলাম। খুব সহজেই ১ টা টিকেট আমরা বেচে দিয়ে আনন্দ করতে থাকি। সেই আনন্দে Syedul Islam এবং Faisal Hasnat এর বিবাহের মিষ্টি খাই আমরা

এরপর রাত বাড়ার সাথে সাথে আমরা আড্ডা ও মজায় মেতে উঠি সবাই। অনেকের জন্য এইটা ছিল অলকিক একটা ট্যুর। তাদের মুখের হাসি দেখে আমাদের আনন্দের মাত্রা আর বেড়ে গেয়েছিল।

ট্রেন এর ভ্রমন এমনিতেই অনেক মজা। তার উপর সাথে যদি জমানর মত বন্ধু রা থাকে তাহলে তহ সোনায় সোহাগা  🙂

রাত বাড়তে থাকে… আস্তে আস্তে চোখে ঘুম চলে আসে। সপ্ন দেখতে হবে যে… সকালেই সপ্ন পুরন হবার আগে রাতেই না হয় স্বপ্নটা দেখে নেই..

 

Follow my food blog

 

সকাল ৫.৩০ টার দিকে সবার   চিল্লাচিল্লিতে ঘুম ভেঙে গেল  :/

 

বাইরে তাকিয়ে সকালের সুন্দর পরিবেশ দেখে মনটা খুশিতে ভরে গেল। সবাই তখন অপেক্ষা করছে কখন আমরা সিলেট গিয়া পৌছাব??

sylhet tour 2018
mazar, sylhet

সকাল ৬ টার দিকে ট্রেন সিলেট এ এসে থামল । সবাই যার যার মত ছবি তুলে নিল। এরপর আমরা মাইক্রো তে করে আমাদের গন্তব্য Hotel Palas এ পৌছালাম।

পেটের মধ্যে ইদুর দৌড়াইতেসিল।। সবার চোখ ফাকি দিয়া আমি আর মিরাজ হোটেল এ গিয়া পরটা দিয়া গরুর গরম গরম কালো ভুনা মেরে দিলাম  <3  <3

হুট করে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। এরই মধ্যে আমাদের লেগুনা চলে আসল ।সবাই মিলে ১৩ জনের ২ টা গ্রুপ এ ভাগ হয়ে ২ টা লেগুনায় বসলাম ।
উদ্দেশ্য নাস্তা করতে যাওয়া

 

 

সকালের এই বৃষ্টি তে ভিজার লোভ সামলাইতে পারলাম না। শুরু করলাম ভিজা…
পরে ভিজতে ভিজতেই প্রথম এ ডিঙ্গি হোটেল এ বসলাম। কিন্তু নবাবদের তখনো সকাল হয়নাই।তাই আবার ভিজতে ভিজতে বাসুন্ধরা হোটেল এ নাস্তা করলাম (আবার)  :p

 

 

নাস্তার দিকে কারও মন ছিলনা… কারন সপ্নের শুরুত এখান থেকেই…  <3

 

গন্তব্য Bichanakandi – বিছানাকান্দি  <3  <3

 

নাস্তা সেরে তাড়াতাড়ি সবাই লেগুনায় চেপে বসলাম। সিলেট শহর থেকে ২ ঘন্টার পথ আইরকান্দি নৌকা ঘাট। সেখান থেকে নৌকায় করে বিছানাকান্দি যেতে হয়।

 

অনেক লম্বা পথ… তাই সবাই মিলে ঠিক করলাম গানের কলি খেলা যেতে পারে।। শুরু হয়ে গেল খেলা… মেয়েরা এক দলে আর ছেলেরা এক দলে… সবাই মিলে চিৎকার করে করে গান গাওয়া হইতাসিল… বেপক মজার এক বেপার ছিল ওইটা।

এর মাঝে খেয়াল হল যে রাস্তা খুব বাজে…  :/ কিন্তু কি আর করা…। ভাল কিছু দেখতে হলে একটু কষ্ট ত করতেই হবে। তাই আবার শুরু হল গানের আসর।।

অবশেষে প্রায় ২.৩০ ঘণ্টার পেরাময় পথ পারি দিয়া আমরা আইরকান্দি নৌকা ঘাট এ আসলাম।।সেখান থেকে নৌকায় করে বিছানাকান্দি গেলাম আমরা।

Sylhet Tour 2018
Beautiful Bisanakandi

মেঘাবৃত আকাশ, মেঘে ঢাকা পর্বতমালা, পাহাড় থেকে প্রবাহিত সুশীতল ঝর্ণাধারায় তীব্র প্রবাহ সব মিলিয়ে অবিশ্বাস্য সুন্দর বিছানাকান্দি। পাথরজলের বিছানায় শরীরটাকে এলিয়ে দিলাম আমরা।। সবাই মিলে হাসি, মজা আর গান এ মেতে উঠলাম সবাই।। সাথে ছবি আর ভিডিও তোলার পর্ব ত ছিলই…

Sylhet tour 2018
Chilling at bisanakandi

Follow my page

এর পর আমদের পান্থুমাই যাওয়ার কথা ছিল… কিন্তু পানি বেশি না থাকার কারনে আমরা অইখানে যেতে পারি নি…  🙁 তবে বিসানাকান্দিতে এত ভাল লাগছিল যে পান্থুমাই যাওয়ার কথা সবাই প্রায় ভুলেই গেল। আবার শুরু হল পানিতে দাপাদাপি করা…

প্রায় ২ ঘন্টা দাপাদাপির পর আমরা দুপুরের খাবার খেতে বসলাম পাশের একটি হোটেলে …। ভাত্‌, শুটকি ভর্তা , গরুর মাংস আর ডাল দিয়া পেটপুরে খাওয়াদাওয়া করলাম আমরা।। এত মজার শুটকি ভর্তা আগে কোনদিন খাইনাই।।

Sylhet tour 2018
Under water

 

হাতে কিছু সময় থাকার কারনে ফিরার পথে আমরা চা বাগান দেখে আসি… সবাই অনেক ভয়ে ছিল কারন বান্ধুবি অইখানে অজগর সাপ দেখসিল…  :v  :v

হোটেল এ ফিরার পথেই সাত কালার এর চা খেয়ে নিলাম আমরা।

 

sylhet tour 2018
7 Colours Tea

হোটেল এ ফিরে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আমরা যাই সিলেট এর বিখ্যাত পাঁচ ভাই হোটেল এ রাতের খাবার খেতে। তাড়াতাড়ি করে ভাত, মাছ ভর্তা আর কোয়েল পাখির ভুনা দিয়ে পেটপুরে খেয়ে নিলাম।

এরপর সবাই মাজার জিয়ারত করে ঘুমানোর উদ্দেশে হোটেল এ ফিরি… কিন্তু কিসের আর ঘুম। হোটেল এ ফিরেই বন্ধু রাশুর জন্মদিন পালন করি কেক কেটে। তারপর রাআত ১ টা পর্যন্ত চলে গান বাজনা।। জোর করে সবাইকে ঘুমাতে পাঠাই।। সকালে যে যেতে হবে আরও ৩ টা জায়গায়……।।

Sylhet tour 2018
Dinner at Pach Vai Restora

 

শনিবার ৬ টায় রাহির ফোন পেয়ে ঘুম ভাঙ্গে।। এরপর ফ্রেশ হয়ে সবাইকে নিয়া আমরা ডিঙ্গি হোটেল এ নাস্তা সেরে নেই।।

গন্তব্য।। রাতারগুল

রাস্তা প্রায় ২ ঘণ্টার।। আর সবাই সবার সাথে পরিচিত হয়ে যাওয়াতে আন্নন্দের মাত্রাটা বেড়ে গিয়েছিল।। শেষ দিনটা সবাই অনেক এনজয় করতে চেয়েছিল।

 

অবশেষে ২ ঘণ্টার পথ পারি দিয়ে আমরা রাতারগুল পোঁছাই ।

এক নৌকায় ৬ জন করে বসে আমরা যাত্রা শুরু করি।

sylhet tour 2018
Ratargul

 

বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল। এতদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও এখন প্রতিদিন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে রাতারগুল। এখানে ঘোরার সেরা সময় বর্ষাকাল। মাথার ওপর সবুজের সমারোহ আর নিচে স্বচ্ছ, শান্ত জলরাশি আপনাকে নিয়ে যাবে কল্পনার জগতে। ওপরে তাকালে দেখা মিলতে পারে হিজল-কড়চের ডালে কালো বানর, কাঠবিড়ালি কিংবা পানকৌড়ি। গাছের ডালে ডালে পাখপাখালির কলতান আপনাকে অন্য এক সংগীতের ভুবনে নিয়ে যাবে। আবার নিচে তাকালে দেখতে পারেন জলের মাঝে সরালি ও বালিহাঁসের ডুবো খেলার ব্যস্ততা। এর আয়তন প্রায় ৩৩১ একর।

sylhet tour 2018
Ratargul swmap forest

 

আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল জাফলঙ্গ।

সিলেট শহর থেকে ২ ঘন্টা ১৫ মিনিটের পথ জাফলং। সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকায় পিয়াইন নদীর অববাহিকায় জাফলং অবস্থিত। জাফলঙ্গ পৌঁছে আমরা ভাত আর মাংস দিয়ে দুপুরের খাবার সেরে নেই।।

 

sylhet tour 2018
Jaflong, sylhet

 

এরপর আমরা সেনগ্রামপুঞ্জির উদ্দেশে রওনা হই।  আশে পাশের প্রকৃতি দেখতে দেখতে আমরা একটা সময় গিয়ে পৌঁছালাম পাহাড়ের পাদদেশে। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ছোট ছোট ঝিরি পথে পাহাড়ি ঝর্ণার পানি নেমে আসছিল। ভোরের স্নিগ্ধতার সাথে ঝিরির পানির শব্দ একটা অন্যরকম আবেশ তৈরী করছিল সেখানে। আশে পাশের প্রকৃতি দেখতে দেখতে প্রায়ই আমাদের পথচলা থমকে যাচ্ছিল।সেইখানের মায়া ঝরনায় মায়াবি মায়াতে আমরা আচ্ছন্ন হয়ে পরি। কেও কেও সেই সুযোগে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিল। আর আমি ব্যস্ত ছিলাম ভিডিও করা নিয়ে। কারণ ভিডিও করতে না পারলে আপনাদেরকে আমাদের অভিজ্ঞতাটা দেখাবো কিভাবে।
সবাই মিলে জলকেলি খেলা শুরু হয়।

sylhet tour 2018
Maya jharna, sylhet

 

এরপর আমরা জাফনং এর জিরো পয়েন্ট এ চলে আসি।। জাফ্লং এর অপরুপ সৌন্দর্য আমাদের মোহিত করে।। সচ্ছ পানিতে নেমে সবাই আননদ করতে থাকি।

 

 

কিন্তু সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে ট্যুর এর… তাই সবের মনটা খারাপ হয়ে যায়…।

 

এইবার ফিরার পালা… আজ চলে যাচ্ছি কিন্তু কথা দিলাম আবার আসব এই শহরে …। দেখা হবে তোমার সাথে “সিলেট”
আজকের মত এতোটুকূ…

 

সৌরভ আহাম্মেদ

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *